যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হানার সামরিক বিকল্প নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে কুপার ট্রাম্পের সামনে ‘স্বল্প সময়ের কিন্তু শক্তিশালী হামলার ঢেউ’ ধরনের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলে তা কার্যকর করা হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ইরানের ‘অবশিষ্ট সামরিক সম্পদ, নেতৃত্ব ও অবকাঠামো’।
ফক্স নিউজ আরও জানায়, পেন্টাগন ‘ডার্ক ঈগল’ নামের একটি নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ উন্নত অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনা করছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ২ হাজার মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং ইরানের অবশিষ্ট ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এছাড়া অঞ্চলটিতে বি-১বি ল্যান্সার বোমারু বিমানের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব বিমান হাইপারসনিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং ‘বড় ধরনের অস্ত্রভাণ্ডার’ নিয়ে অভিযান চালাতে পারে।
নতুন হামলা হলে ‘দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক’ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে মার্কিন অবস্থানগুলোতে ‘দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক হামলা’ চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
বৃহস্পতিবার তেহরান আবারও হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলে ধরে। এতে ওই জলপথ পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জোট গঠনের পরিকল্পনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর দুই মাস পার হলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ এখনও বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই পথ দিয়ে হয়। ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাও বাড়ছে।
৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইরান এখনও প্রণালিটি বন্ধ রেখেছে। তেহরানের দাবি, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর মার্কিন নৌ অবরোধের জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে ব্রিফ করার কথা ছিল।
এই খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে তা কমে প্রায় ১১৪ ডলারে নেমে আসে।
দ্রুত সমাধানের আশা ‘বাস্তবসম্মত নয়’: ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বৃহস্পতিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় দ্রুত ফল আসবে—এমন আশা ‘বাস্তবসম্মত নয়’।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে তিনি বলেন, ‘যেই মধ্যস্থতাকারীই থাকুক না কেন, এত অল্প সময়ে ফল পাওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি না।’
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানের কয়েকটি এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি।
তাসনিম নিউজ জানায়, ছোট ড্রোন ও নজরদারি চালানো মানববিহীন উড়োজাহাজ প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।
একই দিন সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের নাগরিকদের ইরান, লেবানন ও ইরাকে ভ্রমণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ওই দেশগুলোতে অবস্থানরত নাগরিকদের দ্রুত ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে আবুধাবি।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দাম ‘পাথরের মতো নিচে নেমে যাবে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করলেও ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তার আপত্তি নেই। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই নিশ্চিত করেছেন, ইরান টুর্নামেন্টে অংশ নেবে।


